ব্রহ্মরাক্ষস

হঠাৎ মনে হলো পিছনে ঐ প্রতিবেশীর বাড়ির আমগাছের একটি অংশ যেন নড়ছে। আম গাছ এমন একটি গাছ যা নাড়ানো এক প্রকার অসম্ভব। একমাত্র কালবৈশাখী ঝড়ে কিছু অংশ নড়তে দেখেছি। তাহলে কি কেউ নিচে থেকে গাছটিকে নাড়াচ্ছে? তখন প্রায় সন্ধ্যা হয় হয়, ছাদের পিছনে গিয়ে দেখি, ঐ ব্রহ্মরাক্ষস টা গাছটাকে নাড়াচ্ছে আর আমার দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে কটমট করে তাকাচ্ছে।

রক্তাক্ত হাত

আলো জ্বালাতে মামা বললেন একটা জিনিষ দেখবি। বলে হাতের তালু মেলে ধরলেন, আর ধরতেই দেখা গেল হাতের তালু টকটকে লাল। যেন মামা হাতে তাজা রক্ত মেখে রেখেছে।

সত্যিকারের ভুতের গল্প

বাবুদের বাড়ির এই ছাদের ঘরটি কেমন যেন। এখানে এলেই শরীরটা ভার ভার লাগে। কখনো এমনিতেই হঠাৎ শরীরে শিহরণ খেলে, লোম খাড়া হয়ে যায়। ঘাড়ের পিছন থেকে একটি শীতল স্রোত মেরুদণ্ড বরাবর নেমে যায়। আমিনা কিছুই বুঝতে পারে না যে কেন এমন হয়?

খোম্মা

যখন খোম্মাকে তার মেয়ে নিয়ে গিয়েছিল তখন কতবার আমি আর ভাই ওরকম দেখতে বয়স্ক কাউকে পিছন থেকে দেখলে ছুটে গিয়েছি। এখনো মনে পড়ে খোম্মার কথা, বাইরের মানুষ যার সাথে রক্তের কোন সম্পর্ক নেই সেও ভালোবাসার বন্ধনে পরম আত্মীয় হয়ে যায়।

নন্দা

এখন কাজের লোকের অনেক শর্ত। কিন্তু পঞ্চাশ বছর আগে এরকম টা ছিল না। তখন ঠাকুর, চাকর এবং কাজের লোক সর্বক্ষণের হতো। এবং এরা পরিবারের প্রায় সদস্য হয়ে উঠতো। ভৃত্যদের নিয়ে একাধিক সাহিত্য রচনা হয়েছে। এমনকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ভৃত্যকে একাধিক রচনায় উল্লেখ করেছেন। আগে বেশিরভাগ যৌথ পরিবার হতো। ফলে এক একটি বাড়িতে অনেক লোকজন তাই একাধিক ঠাকুর, চাকর থাকতো। রিতিমত ইন্টারভিউ করে ঠাকুর, চাকর নিয়োগ করা হতো। সাধারণতঃ বাড়ির কর্ত্রী এই ইন্টারভিউ টি নিতেন। তাদের কিছু কিছু অতি সাধারন কিন্তু অবিস্মরণীয় ঘটনা নিয়ে এই ছোট গল্প।

সুন্দরবনের ভুতুড়ে নৌকা

বাঘ যখন শিকার করে তখন আক্রান্ত ব্যক্তির তো মৃত্যু হয়না। ভয়ে এবং আঘাতের যন্ত্রনায় সাধারণত সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। কিন্তু বাঘ তো মাংস ছিঁড়ে হাড় ভেঙ্গে খায় তখন আক্রান্ত ব্যক্তির যন্ত্রনায় জ্ঞান ফিরে আসে। সে দেখে বাঘ তাকে চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে। ভয়ে তার মুখ দিয়ে গোঙ্গানির শব্দ বের হয়। এরকম একটা ভয়াবহ মৃত্যু তে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রেত হ‌ওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই। ফলে প্রতিদিন ও সময়ে সে গোঙ্গীয়ে ওঠে এবং কাছের নদীপথ ধরে নৌকা নিয়ে যখন কেউ যায় তখন জঙ্গলের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে খানখান করে দেয় সেই গোঙ্গানির শব্দ।